×
  • আপডেট টাইম : 02/08/2020 04:47 PM
  • 47 বার পঠিত

দেশে শনাক্তের ১৪৮তম দিনে গত ২৪ ঘন্টায় এই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫৮৬ জন।
গতকালের চেয়ে আজ ১ জন বেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এখন পর্যন্ত দেশে এ ভাইরাসে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ হাজার ১৫৪ জন। করোনা শনাক্তের বিবেচনায় আজ মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত ২৬ জুলাই থেকে মৃত্যুর একই হার বিদ্যমান রয়েছে।
আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন হেলথ বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এসব তথ্য জানান।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, করোনাভাইরাসে আক্রাস্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৫৮৬ জন। গতকালের চেয়ে ৫৩১ জন কম সুস্থ হয়েছেন। গতকাল সুস্থ হয়েছিলেন ১ হাজার ১১৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩৯ জন।
তিনি জানান, আজ শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৫৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ সুস্থতার হার শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বেশি।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ৬৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮৮৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকালের চেয়ে আজ ১ হাজার ৩১৩ জন কম শনাক্ত হয়েছেন। গতকাল ৮ হাজার ৮০২ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ১৯৯ জন।
তিনি জানান, দেশে এ পর্যন্ত মোট ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২৯৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ। গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। আগের দিন এ হার ছিল ২৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। আগের দিনের চেয়ে আজ শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ কম।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩ হাজার ২১৩ জনের। আগের দিন সংগ্রহ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৪৫৬ জনের। গতকালের চেয়ে আজ ৪ হাজার ৯৮৫টি নমুনা কম সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশের ৮২টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৬৮৪ জনের। আগের দিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৮ হাজার ৮০২ জনের। গত ২৪ ঘন্টায় আগের দিনের চেয়ে ৫ হাজার ১১৮টি কম নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন, নারী ৫ জন। এ পর্যন্ত পুরুষ মৃত্যুবরণ করেছেন ২ হাজার ৪৭৯ জন। শতাংশের হিসেবে ৭৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। নারী ৬৭৫ জন। শতাংশের হিসেবে এ হার ২১ দশমিক ৪০ । ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২০ জন, বাড়িতে মারা গেছেন ২ জন।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, বয়স বিভাজনে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে রয়েছেন ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৮ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ৯ জন এবং ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ২ জন। এ পর্যন্ত বয়স বিভাজনে মৃত্যুর সংখ্যা এবং শতকরা হারে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩২ জন, এক দশমিক শূন্য ১ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৭ জন, ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২০৭ জন, ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৩৯ জন, ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯০৯ জন, ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ৬০ বছরের উর্ধ্বে ১ হাজার ৪৬ ২ জন, ৪৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ জন, চট্টগ্রাম এবং খুলনা বিভাগে ৩ জন করে, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন, বরিশাল বিভাগে ২ জন, রংপুর এবং সিলেট বিভাগে ১ জন করে। বিভাগ ভিত্তিক মৃত্যু সংখ্যা এবং শতকরা হারে দেখা গেছে ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫০৫ জন, ৪৭ দশমিক ৭২ শতাংশ; চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৬৫ জন, ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ; রাজশাহী বিভাগে ১৯০জন, ৬ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ; খুলনা বিভাগে ২২৯ জন, ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ; বরিশাল বিভাগে ১২৬ জন, ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ; সিলেট বিভাগে ১৫২ জন, ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ; রংপুর বিভাগে ১১৯ জন, ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৬৮ জন, ২ দশমিক ১৬ শতাংশ।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, ‘ঢাকা মহানগরীতে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ১৮৩ জন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ২৩৪ জন, আইসিইউ শয্যায় ভর্তি আছে ২০ জন। সারাদেশে অন্যান্য হাসপাতালে সাধারণ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৪১৬ জন এবং আইসিইউ শয্যায় ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ৮০ জন। সারাদেশে হাসপাতালে সাধারণ শয্যা সংখ্যা ১৫ হাজার ২৪০টি, রোগী ভর্তি আছে ৩ হাজার ৭৩৯ জন এবং শয্যা খালি আছে ১১ হাজার ৫০১টি। সারাদেশে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ৫৫০টি, রোগী ভর্তি আছে ২৮৩ জন এবং খালি আছে ২৬৭ টি। সারাদেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ১২ হাজার ৪৯০টি। সারাদেশে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানেলা সংখ্যা ৩২০টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ১৫৭টি।
০১৩১৩-৭৯১১৩০, ০১৩১৩-৭৯১১৩৮, ০১৩১৩৭৯১১৩৯ এবং ০১৩১৩৭৯১১৪০ এই নম্বরগুলো থেকে হাসপাতালের সকল তথ্য পাওয়া যাবে। কোন হাসপাতালে কতটি শয্যা খালি আছে। কত রোগী ভর্তি ও কতজন ছাড় পেয়েছেন এবং আইসিইউ শয্যা খালি আছে কি না এই ফোন নম্বরগুলোতে ফোন করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে যুক্ত হয়েছেন ৩২৪ জন, ছাড় পেয়েছেন ১৮৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ৫১ হাজার ৮০৫ জন এবং ছাড় পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৫ জন। বর্তমানে আেইসোলেশনে আছেন ১৮ হাজার ৭২০ জন।
তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৯৯২ জন, এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে যুক্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৩৯ হাজার ১৩৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ৮৯৫ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬৪জন। বর্তমানে ৫৫ হাজার ৩৬৯ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন।
নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘন্টায় স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ হটলাইন নম্বরে ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭২৯টি, ৩৩৩ এই নম্বরে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৪২ হাজার ১৩৩টি এবং আইইডিসিআর’র হটলাইনে ফোন এসেছে গত ২৪ ঘন্টায় ২৭৮টি। সব মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে ৪৯ হাজার ৮৪০। এখন থেকে আইইডিসিআর’র হটলাইন ১০৬৫৫ নম্বরটি খোলা থাকবে বাকি নম্বরগুলো বন্ধ থাকবে ।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, করোনাভাইরাস চিকিৎসা বিষয়ে এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৯৮ জন চিকিৎসক অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ৪ হাজার ২১৭ জন স্বাস্থ্য বাতায়ন ও আইইডিসিয়ার’র হটলাইনগুলোতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টা জনগণকে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া ২৪ ঘন্টায় কোভিড বিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করেছেন ৪৩২ জন। এ পর্যন্ত শুধু কোভিড বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করেছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ১৯৯ জন। প্রতিদিন ৩৫ জন চিকিৎসক ও ১০ জন স্বাস্থ্য তথ্যকর্মকর্তা দুই শিফটে মোট ৯০ জন টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, দেশের বিমানবন্দর, নৌ, সমুদ্রবন্দর ও স্থলবন্দর দিয়ে গত ২৪ ঘন্টায় ২ হাজার ১৮২ জনসহ সর্বমোট বাংলাদেশে আগত ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৪৭৬ জনকে স্কিনিং করা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১ আগস্ট পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ ঘন্টায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৬২ হাজার ২৩১ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২০ লাখ ৭২ হাজার ১৯৪ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৮৬৯ জন এবং এ পর্যন্ত ৪৪ হাজার ৯০০ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১ আগস্ট পর্যন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী সারাবিশ্বে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৯ হাজার ৩২১ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৭৩-লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৩ জন। ২৪ ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ হাজার ১৪২ জন এবং এ পর্যন্ত ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৭ জন বলে তিনি জানান। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে ঘরে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনসমাগম এড়িয়ে চলা, সর্বদা মুখে মাস্ক পরে থাকা, সাবান পানি দিয়ে বারবার ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া, বাইরে গেলে হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার, বেশি বেশি পানি ও তরল জাতীয় খাবার, ভিটামিন সি ও ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ডিম, মাছ, মাংস, টাটকা ফলমূল ও সবজি খাওয়াসহ শরীরকে ফিট রাখতে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ তা অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...