Logo
×
ব্রেকিং নিউজ :
রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান খুঁজতে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়া পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে এনজিও’র দেয়া নোটিশ বিষয়ে রিট খারিজ বঙ্গবন্ধুর ছবি বাংলাদেশের ছবি : তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমী ইউএসএ ইনকের অনুষ্ঠান কাল অষ্টম ও নবম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে দুদিন তথ্য মন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির মিডিয়া, প্রচার ও ডকুমেন্টেশন উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরও গবেষণা করতে হবে : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী জিয়া কারাগারে কত মানুষ হত্যা করেছে তা খুঁজে বের করুন: সংসদ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের বার্ষিক রিপোর্ট পেশ প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশন যোগ দিতে কাল ঢাকা ত্যাগ করবেন
  • আপডেট টাইম : 25/05/2021 11:56 PM
  • 101 বার পঠিত

 শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসায় জাতীয়কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী আজ উদযাপিত হচ্ছে।
চলমান করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা , কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ এবং আলোচনা সভা।
কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মেছিলেন। তাঁর ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে সাতটায় রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন কবির সমাধিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি’র নেতৃত্বে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন, কবি নজরুল ইনস্টিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, যুগ্মসচিব অসীম কুমার দে, বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
একই সময় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হয়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুলল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির মাজারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সকালে কবির মাজারে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এ সময়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন ও এডভোকেট আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।
নজরুল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নজরুল চির প্রেমের কবি। তিনি যৌবনের দূত। তিনি প্রেম নিয়েছিলেন, প্রেম চেয়েছিলেন। মূলত তিনি বিদ্রোহী, কিন্তু তার প্রেমিক রুপটিও প্রবাদপ্রতিম। তাই মানুষটি অনায়াসেই বলতে পারেন ‘আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন খুঁজি তারে আমি আপনায়।’ পৃথিবীতে এমন কম মানুষই আছেন যিনি প্রেমের টানে রক্তের সম্পর্কে অস্বীকার করে পথে বেরিয়ে পড়তে পারেন।
বাংলা কবিতায় নজরুলের আবির্ভাব একেবারেই উল্কার মত। হঠাৎ করে একদিন তিনি বাংলা সাহিত্যে আবির্ভুত হয়ে সমস্ত আকাশকে কীভাবে রাঙ্গিয়ে গেলেন অথবা উজ্জ্বল করে দিলেন তা নিয়ে এখনো গবেষণা হতে পারে।
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা।
তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিনী সৃষ্টি করে বাংলা সঙ্গীত জগতকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তাঁর লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার এক বছর পর ১২ই ভাদ্র ১৯৭৬ সালের শোকের মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নজরুল। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। এখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...