Logo
×
ব্রেকিং নিউজ :
ভোলার চরফ্যাসনে করোনায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ হেফাজত নেতা আতাউল্লাহ ও শাখাওয়াত ছয় দিনের রিমান্ডে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হচ্ছে শত বছরের মাস্টার প্ল্যান লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৬০ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে রাষ্ট্রপতি আগামীকাল দ্বিতীয় ডোজ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিবেন প্রধানমন্ত্রী বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন : ওবায়দুল কাদের সকল রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে আওয়ামী লীগ : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেকসই নগরায়নের পাশাপাশি গ্রামগুলোকেও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় ১ হাজার গাছ লাগানো হচ্ছে
  • আপডেট টাইম : 18/03/2021 09:24 PM
  • 62 বার পঠিত

করোনা পরিস্থিতির কারণে বিলম্বিত বহুলপ্রত্যাশিত মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ২০২১ আজ শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি অমর একুশে বইমেলা ২০২১ ও অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
কন্ঠশিল্পী শারমিন সাথী ইসলামের নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত এবং ঐতিহাসিক ভাষার গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদ স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ‘আমার দেখা নয়াচীন’-এর ইংরেজি অনুবাদ ‘নিউ চায়না- ১৯৫২’ এর গ্রন্থ-উন্মোচন করা হয়। গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অধ্যাপক ফকরুল আলম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন। প্রকাশক প্রতিনিধি হিসেবে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ।
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ।
প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,‘একুশে বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। সরকারে কিংবা বিরোধী দলে যেখানেই থাকি, আমি সবসময় বইমেলায় অংশগ্রহণ করি। এবার সশরীরে উপস্থিত না থাকতে পারলেও ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে আপনাদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, এবারের বইমেলা আমাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বিষয়; করোনা মোকাবেলায় আমরা টিকা প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছি। তারপরও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে বইমেলায় আসতে হবে। কেননা, বই আমাদের জ্ঞানের দরজা প্রশস্ত করে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল বহু মাধ্যমে বইয়ের বিকল্প পাঠকের কাছে সহজে পৌঁছে গেলেও এখনও ছাপা বইয়ের আবেদন কখনও পুরনো হবার নয়। বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে বিশ্বব্যাপী এক বিস্ময়ের নাম।
তিনি বলেন, ‘তবে আমাদের একই সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের যথাযথ অনুবাদ বিশ্বের ভাষাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। কারণ যথাযথ অনুবাদের মাধ্যমেই আমাদের জনজীবন,সংস্কৃতি ও গণমানুষের অন্তরঙ্গ পরিচয় পাওয়া যাবে।’
কে এম খালিদ বলেন, স্বাধীনতার মাস মার্চ থেকে শুরু করে বাংলা নববর্ষ পর্যন্ত পরিব্যাপ্ত এবারের মেলায় সবাই স্বাস্থ্যসচেতন থেকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবেন- এই প্রত্যাশা করছি।
অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, একুশের বইমেলা কেবল বই বিকিকিনির উৎসব নয় বরং তাকে আমাদের জাতিসত্তার শেকড়ের বিষয় বিবেচনা করতে হবে। কারণ ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমির এই বইমেলা শুরুর সময়ে স্লোগান নির্বাচন করা হয়েছিল ‘একুশ আমাদের পরিচয়’।
হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন,বৈশ্বিক করোনা মহামারির বিরুদ্ধ-বাস্তবে নির্ধারিত সময়ের পরে হলেও সকলের সহযোগিতায় আজ থেকে আগামী ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলা ২০২১ আয়োজন করার সংকল্প গ্রহণ করেছি। জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবার গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিসরে বইমেলার স্থান বিস্তৃত করা হয়েছে।
প্রকাশক প্রতিনিধি ফরিদ আহমেদ বলেন, করোনা মহামারির বৈরি বাস্তবতায় বিলম্বে হলেও একুশে বইমেলা শুরু হওয়া একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্থ প্রকাশনা শিল্পকে প্রণোদনা দেয়া এখন সময়ের দাবি।
বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২০ প্রদান করা হয়। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার- ২০২০ পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন: কবিতায় মুহাম্মদ সামাদ, কথাসাহিত্যে ইমতিয়ার শামীম, প্রবন্ধ/গবেষণায় বেগম আকতার কামাল, অনুবাদে সুরেশরঞ্জন বসাক, নাটকে রবিউল আলম, শিশুসাহিত্যে আনজীর লিটন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় সাহিদা বেগম, বিজ্ঞান/কল্পবিজ্ঞানে অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণকাহিনীতে ফেরদৌসী মজুমদার, ফোকলোরে মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে তিন লক্ষ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমির বিক্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নূরুন্নাহার খানম এবং ড. শাহাদাৎ হোসেন।
বইমেলার দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত এবং নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। মেলা চলবে সকাল ১১ টা থেকে রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...