×
ব্রেকিং নিউজ :
তারেক রহমান কোনো একক দলের নন, বাংলাদেশের নেতা : আবদুস সালাম নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সব ধরনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে : জামায়াত আমির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশ ইসির বিএনপি কাজে বিশ্বাস করে, সমালোচনায় নয়: মির্জা ফখরুল তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছে দ্য ডিপ্লোম্যাট উইন্ডসর ছাড়লেন ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু : বিবিসি নির্বাচনি দায়িত্বে আচরণবিধি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা : ইসি মাছউদ ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করলো মার্কিন সামরিক বাহিনী গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল ইসলাম নিহত
  • প্রকাশিত : ২০২২-০৪-১১
  • ৬৭১ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আবদুল মোমেন, বাংলাদেশে আরো জাপানি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
টোকিওতে  জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি ইয়োশিমাসার সাথে  আজ জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে  ড. মোমেন এ আমন্ত্রন জানান। প্রায় এক ঘণ্টাব্যপি অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ন পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি দায়িত্ব নেয়ার পর এটি ছিল তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
এ বছর ১০ ফেব্রুয়াারি দুই বন্ধুপ্রতীম দেশ তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন এই শুভ বার্ষিকী অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
জাপানের নাম বাংলাদেশের জনগনের কাছে অতি প্রিয় এবং জাপান বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশে আরো জাপানি বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।  বিশেষ করে ব্লু ইকোনমি,  (সুনীল অর্থনীতি), অটোমোবাইলস, আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালসে, প্রকৌশল, ইলেকট্রনিক্স ইত্যাদির মতো উদীয়মান খাতে বিনিয়োগের অপার সুযোগের কথা উল্লেখ করেন।
 জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রায়নের সাথে সাথে আরো জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে  নিতে  ব্লু ইকোনমি, আইসিটি এবং ফার্মাসিউটিক্যালসে খাতে আরও সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দ্রুত শিখতে পারে ও পরিশ্রমী এবং জাপান সরকারকে আরও বেশি সংখ্যক বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি বলেন, জাপান মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশকে বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান অব্যাহত রাখবে মর্মে আশ্বাস দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশকে জাপানের ভ্যাকসিন প্রধানের জন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন,  এ সব সহায়তার কারনেই বাংলাদেশ এ পর্যন্ত দক্ষতার সাথে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলা করেছে।
এছাড়া দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদি নিয়েও  আলোচনা করেন। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ভাষান চরে স্বেচ্ছায়  ৩০ হাজার  রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরসহ এ পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী  বাংলাদেশকে এ পর্যন্ত প্রদেয় সহায়তার পাশাপাশি সমস্যা নিরসনে জাপানের অবিচল প্রতিশ্রুতির জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান। এ সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য জাপানের আরো সম্পৃক্ততা কামনা করেন।
জাপানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি বলেন, জাপান বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা বিষয়ে  সহায়তা অব্যাহত রাখবে।  এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রত্যাবাসন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াাশি ইউক্রেন, উত্তর কোরিয়া এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন।
 পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে। ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া বা লিবিয়া যেখানেই যুদ্ধ হয়  সেখানে জানমালের ক্ষতি হয়। বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে এবং ইউক্রেনে মানবিক সহায়তা প্রদানের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে।
দু’দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু এবং বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশের উপর এর প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন। তারা বৈশ্বিক ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশে আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাপানের সহায়তা কামনা করেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে ভবিষ্যৎ প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং একে অপরের প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি তা বিবেচনা করতে সম্মত হন।
টোকিওতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত  শাহাবুদ্দিন আহমদ, মিশন উপ-প্রধান শাহ্ আসিফ রহমান এবং পরিচালক (পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়)  মোঃ এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে অংশ নেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন, ১১-১৫ এপ্রিল তারিখে পালাও-এ অনুষ্ঠিতব্য মহাসাগর বিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়ার পথে টোকিওতে যাত্রা বিরতি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat