×
ব্রেকিং নিউজ :
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই তারেক রহমান কোনো একক দলের নন, বাংলাদেশের নেতা : আবদুস সালাম নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সব ধরনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে : জামায়াত আমির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশ ইসির বিএনপি কাজে বিশ্বাস করে, সমালোচনায় নয়: মির্জা ফখরুল তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছে দ্য ডিপ্লোম্যাট উইন্ডসর ছাড়লেন ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু : বিবিসি নির্বাচনি দায়িত্বে আচরণবিধি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা : ইসি মাছউদ
  • প্রকাশিত : ২০২৪-০৯-১৬
  • ৩৪৩৬৪৬ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী জশনে জুলুছ বা ধর্মীয় শোভাযাত্রায় জনস্্েরাত নেমেছে। লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে শোভাযাত্রা নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর, নারায়ে রেসালত, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.) সহ নানা স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আকাশ-বাতাস। অংশগ্রহণকারী সবার মুখে মুখে উচ্চারিত হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে কামেল পীর-বুজুর্গ ও আউলিয়াদের পবিত্র মাজার ভাঙার তীব্র প্রতিবাদ। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানান তারা।
আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এবারের শোভাযাত্রার ৫২তম আয়োজন। সংগঠনটির দাবি, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন এই শোভাযাত্রা বা জশনে জুলছ। এতে নেতৃত্ব দেন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবের শাহ্। অতিথি ছিলেন শাহজাদা সৈয়্যদ মুহাম্মদ কাসেম শাহ্।
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর আলমগীর খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রাটি। হামদ, নাত, দরুদ পড়তে পড়তে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এরপর শোভাযাত্রা দুপুরে জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা সংলগ্ন মাঠে গিয়ে জমায়েত হয়। সকাল থেকে সেখানে আলেমরা বক্তব্য দেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে আলোচনা শেষে মাঠেই জোহরের নামাজ আদায় করা হয়। এরপর মিলাদ ও দোয়া করা হয়। সবশেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন পীর আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ সাবের শাহ। মোনাজাতে তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
এর আগে ফজরের নামাজের পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বাস, ট্রাক, জিপে করে আসা শুরু করেন ভক্তরা। সুন্নিয়া মাদরাসা, বিবিরহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড় এলাকা লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয়।
চট্টগ্রামে জশনে জুলুছ ৫০ বছর আগে ১৯৭৪ সালের ১২ রবিউল আউয়াল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জশনে জুলুছ মিডিয়া কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতিয়ার।
তিনি বলেন, ‘দরবারে কাদেরিয়া আলিয়া সিরিকোট শরীফের (পাকিস্তান) তৎকালীন সাজ্জাদানশীন, আধ্যাত্মিক সাধক, আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ (রহ.) এ জশনে জুলুছের প্রবর্তন করেন।'
এবারের জুলুছে অর্ধকোটি মানুষ অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে আইনজীবী বখতিয়ার বলেন, ‘জুলুছের মধ্য দিয়ে সবার কাছে শান্তির বার্তা বয়ে দেওয়া হয়। আমরা জঙ্গিবাদবিরোধী, আমরা শান্তি-সমৃদ্ধির পক্ষের মানুষ। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষ।’
আয়োজক সংগঠন আনজুমানের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ‘চট্টগ্রামের এই জুলুছ বিশ্বের সবচেয়ে বড় শোভাযাত্রা। আমরা বিশ্বাস করি এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করবে। আমাদের স্বীকৃতি দিতেই হবে।’
এদিকে সম্প্রতি হঠাৎ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে কামেল পীর-বুজুর্গ ও আউলিয়াদের মাজার ভাঙার অপসংস্কৃতি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে জুলুছে আগত ভক্তরা বলেন, ঘোষণা দিয়ে মাজার ভাঙার অপচেষ্টা চলছে। আমরা আশাকরি সরকার তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নইলে এদেশের কোটি কেটি সুন্নি জনতা দুর্বৃত্তদের রেহাই দেবে না।
জানা গেছে, আনজুমান সিকিউরিটি ফোর্সের (এএসএফ) ৩০০ প্রশিক্ষিত সদস্য এবার শোভাযাত্রার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন। এর বাইরে গাউসিয়া কমিটির কর্মী ও জামেয়ার হাজার হাজার ছাত্র স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, শোভাযাত্রায় এক হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও সক্রিয় সার্বিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat