×
ব্রেকিং নিউজ :
দাঁড়িপাল্লা কেবল একটি প্রতীক নয়, এটি ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার: ড. মাসুদ তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে রংপুরবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কুড়িগ্রামে পোস্টাল ব্যালট বাক্সের লক উদ্বোধন, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটগ্রহণ দিনাজপুরে ৬টি আসনে ৩৭ প্লাটুন বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং মোতায়ন ২৩ মার্চ ‘বিএনসিসি দিবস’ ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত পোষ্টার মুদ্রণ থেকে বিরত থাকতে ছাপাখানাকে ইসির নির্দেশ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের পার্লামেন্টে শোক প্রস্তাব গৃহীত শেরপুরের ঘটনায় ইউএনও এবং ওসিকে প্রত্যাহার: ইসি সচিব জুলাই সনদের মূল কথা হলো মানুষের অধিকার বুঝে দেয়া : আলী রীয়াজ ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৫-২০২৮ অনুমোদন
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০১-১৩
  • ৬৫৭৬৯১৩ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান আঞ্চলিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি : পিআইডি
মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক গতিপথের জন্য শক্ত ও টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত 'সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেকটিভিটি ও রেজিলিয়েন্স ফর সাইডস' শীর্ষক নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান আঞ্চলিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ওপিআরআই), মিডা এবং পিস অ্যান্ড পলিসি সল্যুশনস (পিপিএস)।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম হল দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অভিযাত্রার জন্য দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করে দেওয়া। দেশের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় বৈষম্যের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থলভাগের আয়তন যেখানে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার, সেখানে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে দেশের সামুদ্রিক এলাকা বিস্তৃত।'

আয়তন বেশি হলেও গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ সামুদ্রিক বিষয়গুলোর জন্য গুরুত্ব ও উদ্যোগ স্থলভিত্তিক বিষয়গুলোর এক-দশমাংশেরও কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩০ দিন বাকি আছে। এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব হল নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত করা।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান কর্মশালাটি নির্বাচিত সরকারকে একটি শক্ত ভিত্তি এবং প্রাথমিক দিকনির্দেশনা দেবে। এটির মাধ্যমে আগামী সরকার কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।

আশিক মাহমুদ বলেন, আমাদের ব্লুপ্রিন্ট তাদের জন্য একটি ভালো শুরু হবে। এটি সমুদ্রসম্পদ ব্যবহার করে উপকূলীয় এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওপিআরআই-এর প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো এবং মিডার সদস্য কমোডর তানজিম ফারুক প্রমুখ।

প্রফেসর মাকিনো জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংলাপ আয়োজনের লক্ষ্য হল ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা। এর মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়, প্রবাল প্রাচীরের ক্ষয় ও উপকূলীয় ক্ষয় অন্যতম।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়; বরং সমুদ্রনির্ভর লাখো মানুষের জীবিকা, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের জন্য সরাসরি হুমকি।

ভারত মহাসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে মিাকিনো বলেন, ‘গ্রেট মিডল বে’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলটি ৩৩টিরও বেশি দেশকে সংযুক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, জাপানের জন্যও অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। কারণ এটি দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করে।

অধ্যাপক মাকিনো বলেন, জাপান চায় ‘স্বাধীন ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক’ নীতি বাস্তবায়ন করতে। তাদের বিশ্বাস, সমুদ্র নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং সমুদ্র সংরক্ষণ একসঙ্গে এগোতে হবে।

তানজিম ফারুক বলেন, মহেশখালী দেশের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় অবস্থিত উপকূলীয় জেলা।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মিডা প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হল-আগামী ৩০ বছর ও তার পরবর্তী সময়ের মধ্যে মহেশখালীকে দেশের শিল্পোন্নয়নের ফ্ল্যাগশিপ এলাকায় রূপান্তর করা। যেখানে বিশ্বমানের অবকাঠামো, সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং নতুন নগরায়ণ গড়ে উঠবে। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, সমুদ্র কেবল জলরাশি নয়; এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির রক্তপ্রবাহও। পৃথিবীর অতিরিক্ত তাপের প্রায় ৯০ শতাংশ সমুদ্র শোষণ করে এবং চার বিলিয়ন মানুষের জন্য অক্সিজেন ও খাদ্যের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।

তবে ড. এমাদুল সতর্ক করে বলেন, এই ‘জীবের জননী’ নিজেই বর্তমানে নজিরবিহীন চাপের মুখে রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, পানির নিচের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে।

ড. এমাদুল ইসলাম প্রবাল প্রাচীরে ক্ষয় (কোরাল ড্রিফট) নিয়েও সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখার হৃদয়’ হিসেবে পরিচিত প্রবাল প্রাচীরের ক্ষয় মানবজাতির উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার ভয়াবহ পরিণতি।

তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক দূষণের হুমকি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে বঙ্গোপসাগর প্লাস্টিকের স্যুপে পরিণত হতে পারে।

ড. এমাদুল ইসলাম অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণে উপেক্ষিত ছিল উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর কণ্ঠ। এবার তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করার সময় এসেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat