বুধবার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাত সহযোগিতায় অত্যাধুনিক ‘মোবাইল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইউনিট’ হস্তান্তার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। ছবি : পিআইডি
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, মোবাইল সার্জিক্যাল ইউনিট হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আমূল বদলে দেওয়ার যে রূপকল্প এবং মিশন তুলে ধরা হয়েছে, এই উদ্যোগটি সেটাকে আরও বেগবান করবে। সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করবে, যাতে সরকারি হাসপাতালের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের চাহিদ মেটাতে পারে।’
আজ বুধবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চীন-বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাত সহযোগিতার অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক ‘মোবাইল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইউনিট’ (ভ্রাম্যমাণ ভ্যান) হস্তান্তার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
মোবাইল মেডিকেল অ্যান্ড সার্জিক্যাল ইউনিট’ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসংক্রামক ব্যাধি, বিশেষ করে হৃদরোগে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এই চমৎকার মোবাইল যানটি এনআইসিভিডি-র কাজগুলোকে শুধু ঢাকা নয়, বরং ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও পৌঁছে দেওয়ার এক দারুণ সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
তিনি বলেন, অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতও গত ১৫ বছরে দুর্নীতি, তদারকির অভাব এবং সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে আমরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও পুনর্গঠন করতে চাই, যাতে সরকারি হাসপাতালের সুবিধা প্রকৃত অর্থে সাধারণ জনগণের চাহিদ মেটাতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে হাসপাতাল সম্প্রসারণ, চিকিৎসা গবেষণা এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উন্নত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে চীনের সাথে আমাদের অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে একটি স্বল্পমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছি, যা আমাদের বর্তমান ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনগুলো মেটাতে সাহায্য করবে।