×
ব্রেকিং নিউজ :
টাঙ্গাইলে শিশু মেলা অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মাহদী আমিন বাংলাদেশি পণ্য আমদানি বাড়াতে চীনের প্রতি গভর্নরের আহ্বান বিশ্ব পর্যটন দিবস উদ্যাপনে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ মেজর (অব.) মোজাফফরকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ইউজিসির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক হলেন ডা. নুরুল ইসলাম সাংবাদিকতা পেশা নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি : তথ্যমন্ত্রী জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপির বিষয়ে সংসদের রেফারেন্স পেলেই ব্যবস্থা: নির্বাচন কমিশনার নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০৭-২৩
  • ৫৪৬৫৫৮৪ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
চাদের প্রত্যন্ত পূর্বাঞ্চলে পানির তীব্র সংকটের কারণে কূপের পানি ব্যবহারকে কেন্দ্র করে প্রাণঘাতী সংঘাতও বাড়ছে। দরিদ্র ও প্রখর গরমে পুড়তে থাকা মরু অঞ্চলে এই সংকট জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। 

দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আবেচেতেও প্রায়ই কলে পানি থাকে না। দ্রুত নগরায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি এ সংকটকে আরও তীব্র করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, শহরটির জনসংখ্যা এখন ৫ লক্ষাধিক। শহরের কিছু এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তাও নিয়মিত নয়।

প্রখর রোদে প্রায়ই লালচে মাটির পথ ধরে রঙিন ওড়না পরা নারীদের জেরিক্যানে করে কূপ থেকে পানি বহন করে বাড়ি ফিরতে দেখা যায় ।

আবেচে থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ব্যবসায়ী ইসা মাহামাত বলেন, ‘দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কলে একেবারেই পানি আসে না। গভীর রাতে আবার পানি প্রবাহ শুরু হয়।’

আবেচের অন্য অনেক এলাকার বাসিন্দার অবস্থা আরও খারাপ।

বাসিন্দা কাদিদজা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখনো অর্থের বিনিময়ে পানি কিনি। কলের পানির সঙ্গে এখনো পরিচিত হতে পারিনি।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে চাদের ১০ শতাংশেরও কম পরিবার নিরাপদ ও সার্বক্ষণিক প্রবাহমান পানির সুবিধা পায়।

-অবকাঠামোর ঘাটতি-

মূলত আধা-মরু অঞ্চল নিয়ে গঠিত চাদ জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। ২০০৩ সালে দেশটি তেল উৎপাদন শুরু করলেও এখনো চরম দারিদ্রের মধ্যে রয়েছে। 
দেশটির ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামো গড়ে উঠতে না পারায় সরকার ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।

২০১৯ সালে আবেশে থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরের বিতেহা এলাকায় একটি প্রকল্প শুরু হয়। সেখানে কয়েকটি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে শহরের দুটি পানির টাওয়ারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক বাখিত ডিকি বারকাই বলেন, ‘মানুষের পানির চাহিদা খুবই তীব্র। বিতেহা-২ প্রকল্প উৎপাদন বাড়াবে এবং পরিবারের চাহিদা পূরণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘সংকট পুরোপুরি দূর না হলেও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

বারকাই জানান, আগে তাপপ্রবাহের সময় পানির সংকট আরও বেড়ে যেত। তবে গত তিন বছরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বছরের শেষ নাগাদ আমরা প্রতিদিন ২৫ হাজার ঘনমিটার পানি উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছাব। তখন আবেচেতে আর পানির সংকটের কথা থাকবে না।’

চিতেয়ে এলাকার বাসিন্দা আহমেদ ইউসুফ বলেন, ‘সৌভাগ্যক্রমে আমাদের এলাকায় নতুন পানির টাওয়ার স্থাপন হওয়ায় এখন আমরা স্বস্তিতে আছি। পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছি।’

তবে নতুন অবকাঠামো এখনো সবার চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

-দারিদ্র্য ও সংঘাত-

শহর ও গ্রামের মধ্যে পানির প্রাপ্যতার বৈষম্য এখনো বড় সমস্যা। পানির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ অনেক সময় প্রাণঘাতী সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।

চাদের প্রেসিডেন্ট মাহামাত ইদ্রিস দেবি ইতনো সম্প্রতি পানি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক ফোরামে এ সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

১৫ জুলাই রাজধানী এন'জামেনায় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘যখন পানির স্তর নেমে যায় বা পানির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন দারিদ্র্য দ্রুত বাড়ে। মানুষ ও গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাতও বেড়ে যায়।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ও মধ্য আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষের দেশ চাদ আফ্রিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা সবচেয়ে অরক্ষিত দেশগুলোর একটি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat