×
ব্রেকিং নিউজ :
বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন : ড. মোমেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সরকার বিচলিত নয় : কৃষিমন্ত্রী বর্তমান সরকারের মেয়াদেই ভূমি অপরাধ আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে : ভূমিমন্ত্রী অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করতে চাওয়া রাষ্ট্রদ্রোহিতা : রেজাউল নওগাঁর চককসবা বিলের সরকারি সন্পতি দখল করে নেওয়ায় রুটি-রুজি বন্ধের আশঙ্কায় ১৩ গ্রামের জেলে পরিবারের ওআইসি মহাসচিব ঢাকায় পৌঁছেছেন সরকারি খরচায় লিগ্যাল এইডে ৩৫৩৬৫৬ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান কানাডায় বাণিজ্য মেলা নভেম্বরে, আবেদন ১৫ জুনের মধ্যে আওয়ামী লীগের যৌথসভা আগামীকাল দেশে আরও ৬১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত
  • প্রকাশিত : ২০২৩-০৪-০৪
  • ১৩৩ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়কপথ চালুর ১০ মাসের মাথায় উন্মোচিত হলো স্বপ্নের পদ্মা সেতুর আরও এক মাইলফলক। নিজেদের টাকায় তৈরি পদ্মা সেতুতে চললো ট্রেন। ৬ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে পাথরবিহীন রেললাইনে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক ট্রেন চলেছে আজ মঙ্গলবার। দুপুরে পদ্মা সেতুর দক্ষিণ প্রান্তের ভাঙ্গা স্টেশন থেকে ট্রেনে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে মাওয়া স্টেশনে নামেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

দেশে প্রথমবারের মতো সর্ববৃহৎ রেলব্রিজ মুভমেন্ট জয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে পদ্মার রেলসেতুতে। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তিন ভাগে-ঢাকা থেকে মাওয়া, মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের কাজ করছে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিআরইসি)। কাজটি তত্ত্বাবধান করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি)।

পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে। এটি ছিল ১৭ কোটি মানুষের স্বপ্ন পূরণের ঘটনা। এর মধ্যে ঢাকা-টু ভাঙ্গা অংশের ৮২ কিলোমিটারের কাজ প্রায় শেষ। এ বছর জুনের মধ্যে এ অংশের কাজ শেষ হলে জুলাইয়ে তা চালু করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভাঙ্গা-যশোর অংশ চালু হবে আগামী বছর। এর ফলে রেলপথে ঢাকা-খুলনার দূরত্ব ২১২ কিলোমিটার কমে যাবে।

পদ্মা সেতু ও এর দুই প্রান্তে রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালে। প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালে। শুরুতে যানবাহনের সঙ্গে একই দিন রেল চালুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়। পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন করার দায়িত্ব সেতু বিভাগের হলেও ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার দায়িত্ব রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। ফলে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইন বসানো এবং স্টেশন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে আলাদা প্রকল্প নেয় রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। জিটুজি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে চীন। এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে রেল চলাচলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে পদ্মা সেতু প্রকল্প।

পদ্মা সেতু বাঙালি জাতির মর্যাদার প্রতীক। নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর একটি সাহসী সিদ্ধান্ত তাকে একজন আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ধারাবাহিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের সেতুবন্ধনে তৈরি হয়েছে নতুন মাত্রা। দ্রুত যাতায়াতের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে নানা ধরনের অর্থনৈতিক সুযোগ। পদ্মা সেতু এখন বাংলাদেশ ও বাঙালির গর্বের প্রতীক, আনন্দের ঝরনাধারা। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন এ পদ্মা সেতু।

পদ্মাসেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পর্যটন ও শিল্পায়নে যে আকাশচুম্বী সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তার প্রেক্ষাপটে উন্নয়ন পরিকল্পনার সমন্বিত রূপরেখা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। দেশের ওই অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, একইস্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অপূর্ব মনোরম সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা, খানজাহান আলীর মাজার ও ষাটগম্বুজ মসজিদসহ অনেক দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন স্পট রয়েছে, যা এতদিন উত্তাল পদ্মানদী পেরিয়ে যাতায়াতের অসুবিধার কারণে জমে ওঠেনি। পদ্মাসেতুর মেলবন্ধন দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিতে যেমন নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, একইভাবে সেখানে শিল্পায়নে নতুন নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অপার সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণ বাংলার ২১টি জেলার কৃষক, মৎস্যজীবী, তাঁতি, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভোক্তার সমাবেশ যে রাজধানী ঢাকা তার সঙ্গে অনায়াসে সংযুক্ত হতে পেরেছে। অন্যদিকে তারা রাজধানী থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারছে তাদের গ্রামের ও আশপাশের এসএমই উদ্যোগগুলোর জন্য। দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উৎপাদন, সেবা, পর্যটন, শিল্প-বাণিজ্যেও বিনিয়োগ বেড়েছে। বেড়েছে কর্মসংস্থান। ২১ জেলায় মানুষের আয়-রোজগার ও জীবনের মান বাড়ার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের জিডিপি অন্তত ৩.৫ শতাংশ বাড়বে। আর দেশের জিডিপি বাড়বে অন্তত আরো ১.২৬ শতাংশ। ট্রান্স-এশিয়ান রেল ও সড়ক এই সেতুর মাধ্যমেই যুক্ত হবে। এডিবি বলছে, ২০৫০ সালে ৬৭ হাজার যান চলাচল করবে এই সেতু দিয়ে। জরিপে আরো বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যেই পাঁচ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুবিধা পাবে এই সেতুর কল্যাণে। দক্ষিণাঞ্চলের দারিদ্র্য প্রতিবছর ১ শতাংশেরও বেশি হারে কমবে। অর্থাৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে আমাদের যাত্রা আরো ত্বরান্বিত হবে। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

আগে যেখানে মাওয়া-জাজিরা ফেরিঘাটে পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হতো, এখন তা মাত্র ১০ মিনিটেই পার হওয়া যাচ্ছে। পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় থেকে শরিয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে জমির মূল্য বেড়ে চলেছে। হাজার হাজার বেসরকারি ও কর্পোরেট উদ্যোক্তা বিভিন্ন সেক্টরে শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। সেই সাথে সরকার এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তত্ত্বাবধানে ১৭টি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে বাগেরহাটে পরিকল্পিত ইকোট্যুরিজম পার্ক এবং মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন পরিকল্পনা সেখানে লাখো মানুষের নতুন কর্মসংস্থান ও কর্মচাঞ্চল্যে ভরিয়ে তুলছে।

পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে টার্গেট করে নতুন নতুন শিল্পোদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পদ্মাসেতুর সাথে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সংযোগ সড়ক মহাসড়কগুলোর উন্নয়ন, প্রশস্তকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে বাগেরহাট, সুন্দরবন ও কুয়াকাটায় নতুন পর্যটন সম্ভাবনা শুধু দেশীয় দর্শনার্থীদেরই আকৃষ্ট করেনি, আন্তর্জাতিক পর্যটনেরও অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আশাকরি এই অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে সফলভাবে কাজে লাগাতে পারলে অন্য যে কোনো শিল্পোদ্যোগের চেয়ে অনেক বেশি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে।

 লেখক: পরিচালক, বিজিএমইএ; শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ; চেয়ারম্যান, নিপা গ্রুপ ও কেসি ফাউন্ডেশন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat