×
ব্রেকিং নিউজ :
তারেক রহমান কোনো একক দলের নন, বাংলাদেশের নেতা : আবদুস সালাম নির্বাচনে সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সব ধরনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে : জামায়াত আমির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে আচরণবিধি প্রতিপালনের নির্দেশ ইসির বিএনপি কাজে বিশ্বাস করে, সমালোচনায় নয়: মির্জা ফখরুল তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছে দ্য ডিপ্লোম্যাট উইন্ডসর ছাড়লেন ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু : বিবিসি নির্বাচনি দায়িত্বে আচরণবিধি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা : ইসি মাছউদ ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করলো মার্কিন সামরিক বাহিনী গাদ্দাফি পুত্র সাইফ আল ইসলাম নিহত
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৪
  • ৪৪৩৪৩৬২২ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
লিবিয়ার সাবেক দীর্ঘদিনের শাসক কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি বন্দুকধারীদের হামলায় মঙ্গলবার নিহত হয়েছেন। 

লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের জিনতানে অবস্থিত বাসভবনে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। তার ফরাসি আইনজীবী মার্সেল সেকালদির উদ্ধৃতি দিয়ে ত্রিপোলি থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। 

সেকালদি বলেন, ‘আজ স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় জিনতানের বাড়িতে চার সদস্যের একটি কমান্ডো দল তাকে হত্যা করেছে।’  

৫৩ বছর বয়সী সাইফ আল ইসলামকে অনেকেই তাঁর বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দেখতেন। যদিও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি)-এর জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখে ছিলেন তিনি।

২০২১ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে ওই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

সাইফ আল ইসলামের উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান আবদুর রহিম লিবিয়ার আল আহারার টেলিভিশনকে বলেন, চার অজ্ঞাত ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে প্রথমে নজরদারি ক্যামেরা অচল করে দেয়। এরপর তাঁকে হত্যা করা হয়।

হত্যার পেছনে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সেকালদি বলেন, কয়েক দিন আগে সাইফ আল ইসলামের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাঁকে জানিয়েছিলেন, তার নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি গাদ্দাফি গোত্রের প্রধান সাইফকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার নিরাপত্তার জন্য লোক পাঠাব।’ কিন্তু সাইফ তা প্রত্যাখ্যান করেন।’

বাবার শাসনামলে সাইফ আল ইসলামের কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকলেও তাঁকে লিবিয়ার কার্যত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বর্ণনা করা হতো। ২০১১ সালের আরব বসন্তের আগে তিনি নিজেকে মধ্যপন্থী ও সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

তবে বিদ্রোহের মুখে তিনি ‘রক্তের নদী’ বইয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে সেই ভাবমূর্তি ভেঙে পড়ে।

হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারিকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানায় ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে দক্ষিণ লিবিয়ায় সাইফ আল ইসলামকে গ্রেফতার করা হন।

২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত দ্রুত বিচার শেষে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। পরে তিনি সাধারণ ক্ষমা পান।

দীর্ঘদিন তাঁর অবস্থান অজানা ছিল। সেকালদি বলেন, তিনি ‘প্রায়ই স্থান পরিবর্তন করতেন।’

লিবিয়া বিশেষজ্ঞ এমাদেদ্দিন বাদি বলেন, সাইফ আল ইসলামের মৃত্যু ‘জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ তাকে শহীদ বলে বিবেচনা করতে পারে এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথে বড় একটি বাধা সরে গিয়ে নির্বাচনী সমীকরণ বদলে দিতে পারে।’

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘তাঁর প্রার্থীতা ও সম্ভাব্য সাফল্য ছিল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।’

মুয়াম্মার গাদ্দাফির শেষ মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিমও এক্সে লেখেন, ‘তাঁকে বিশ্বাসঘাতকতা করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সবার জন্য নিরাপদ, ঐক্যবদ্ধ ও সার্বভৌম লিবিয়া চেয়েছিলেন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘দুই দিন আগে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল। তিনি কেবল শান্তিপূর্ণ লিবিয়া ও জনগণের নিরাপত্তার কথাই বলেছেন।’

২০১১ সালে ন্যাটোুসমর্থিত বিদ্রোহে মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই লিবিয়া অস্থিরতায় ভুগছে।

বর্তমানে দেশটি জাতিসংঘ সমর্থিত ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার ও হাফতারের সমর্থিত পূর্বাঞ্চলীয় প্রশাসনের মধ্যে বিভক্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat