আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পাকিস্তানী অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নাওয়াজ তার সাম্প্রতিক ক্যারিয়ার পুনরুত্থানের পেছনে সুযোগ, ধৈর্য এবং কৌশলগত বিষয়ের সমন্বয়কে কৃতিত্ব দিয়েছেন। জাতীয় দলে তার প্রত্যাবর্তন শুরুতে অপ্রত্যাশিত হলেও সেটিই তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়ের সূচনা করেছে।
জুলাই মাসে সতীর্থ শাদাব খানের চোটের পর নাওয়াজের জাতীয় দলে ফিরে আসা অনেকের জন্যই ছিল বিস্ময়কর। সে সময় তিনি ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল)সহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এ সম্পর্কে নাওয়াজ বলেন, “জুলাইয়ে আমি সিপিএলে নির্বাচিত হয়েছিলাম এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলো খেলতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। শাদাব চোটে পড়ায় তার বদলি হিসেবে আমাকে নেওয়া হয়। এটা আমার পরিকল্পনায় ছিল না। পাকিস্তান দলে নির্বাচিত হওয়ার সময়ও আমি ভাবিনি যে এমন পারফরম্যান্স করতে পারব। বছরের বাকি সময়টা এভাবে যাবে। এতগুলো দারুণ পারফরম্যান্স আসবে, এটা আমি কল্পনাও করিনি। আমাদের বড়রা বলেন, আল্লাহর পরিকল্পনা মানুষের পরিকল্পনার চেয়ে উত্তম। তাঁর পরিকল্পনাই সেরা”।
বিশ্ব মঞ্চের দিকে তাকিয়ে নাওয়াজ পাকিস্তানের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী, “এটাই আমাদের সেরা সুযোগ। শ্রীলঙ্কার কন্ডিশন অনুযায়ী আমাদের দারুণ একটি সমন্বয় আছে। বিশ্বকাপের আগে আমরা অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি।”
বিশ্বকাপের চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি আলাদা মাত্রার এক মঞ্চ।
তিনি বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিততেও চাপ থাকে, কিন্তু বিশ্বকাপে খেললে ‘বিশ্বকাপ’ নামটাই আলাদা চাপ তৈরি করে। একজন খেলোয়াড়কে জানতে হবে, সেই চাপ কীভাবে সামলাতে হয়।”
বোলার হিসেবে সাম্প্রতিক উন্নতির পেছনে বড় কারণ হিসেবে নাওয়াজ তুলে ধরেন তার ডেলিভারিতে বৈচিত্র্য আনার সচেতন প্রচেষ্টাকে। গতি নিয়ন্ত্রণ ও ভিন্ন ভিন্ন ধরন ব্যবহার করে তিনি ব্যাটসম্যানদের জন্য নিজেকে আরও কার্যকর ও অনিশ্চিত করে তুলেছেন।
নাওয়াজ বলেন, “গত কয়েক মাসে কোচরা আমাকে বলেছেন যে আমি গতির ভিন্নতা আনছি। ধীরে বল করলে বল টার্ন করার সুযোগ পায়। আধুনিক ক্রিকেট খুব দ্রুতগতির হয়ে গেছে, তাই স্পিনার যখন চাপে পড়ে, তখন সে দ্রুত বল করতে শুরু করে।”
নাওয়াজ সাদা বলের কোচ মাইক হেসনের প্রভাবের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এবং খেলোয়াড়দের জন্য তিনি যে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছেন তার প্রশংসা করেন। পিএসএলে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে হেসনের অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে ৩১ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বলেন, কোচের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা খেলোয়াড়দের কাজ সহজ করে দিয়েছে।
হেসনের অধীনে দলের সাফল্যের কথা স্মরণ করেন নওয়াজ, “মাইক হেসন খুবই ইতিবাচক একজন কোচ। গত মৌসুমের পিএসএলে আমি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডে তার অধীনে খেলেছি। তিনি প্রত্যেক খেলোয়াড়কে তার ভূমিকা পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেন, দলে তার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একজন খেলোয়াড় যখন এসব জানে, তখন নিজের ভূমিকায় মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। আমরা দুটি ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছি, আরেকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতেছি। এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছি। মাইক হেসনের অধীনে আমাদের ফলাফল ভালো ছিল। আমার মনে হয়, তিনি খেলোয়াড়দের পরিধি বাড়াতে চাইছেন, তরুণদের আরও সুযোগ দিতে চাইছেন।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যকার ব্যবধান কমানোর ক্ষেত্রেও হেসনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ, “পাকিস্তানে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মধ্যে বড় একটি ব্যবধান আছে। আমার মনে হয়, তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য সেই ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করছেন তিনি। সর্বোচ্চ পর্যায়ে কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়, সেটা তাদের জানা দরকার। পাকিস্তান দলে ক্রিকেট কীভাবে খেলা হয়, তরুনদের সেটা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার হেসনের উদ্যোগকে আমি খুবই ইতিবাচক মনে করি।”