মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক এজেন্ডায় ইউরোপকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মিউনিখ থেকে এএফপি জানায়, শনিবার মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুবিও বলেন, ‘ইউরোপের ভবিষ্যৎ কখনোই আমাদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক নয়,’ এবং ‘শেষ পর্যন্ত আমাদের ভাগ্য একসূত্রে গাঁথা ছিল, আছে এবং থাকবে।’
এক বছর আগে একই মঞ্চে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপের অভিবাসন নীতি ও বাক্স্বাধীনতা ইস্যুতে কড়া সমালোচনা করেছিলেন। সে তুলনায় রুবিওর বক্তব্য ছিল অনেকটাই সমঝোতামূলক।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ইউরোপ নিয়ে তার কটূক্তির কারণে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গ্রিনল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
রুবিও বলেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক ‘পুনরুত্থান ও পুনর্গঠন-এর নেতৃত্ব দিতে চায়। ‘প্রয়োজনে আমরা একাই এগোবো, তবে আমাদের পছন্দ ও আশা ইউরোপের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়েই এগোনো,’ বলেন তিনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা ইউরোপকে শক্তিশালী দেখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, ইউরোপের টিকে থাকা জরুরি।’
রুবিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অভিন্ন ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কমিউনিজম পরাজয়ে দুই পক্ষের যৌথ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় বসতিস্থাপনকারীরাই আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছিলেন। ‘আমাদের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চল গড়ে তুলেছেন জার্মান কৃষক ও কারিগররা, যারা শূন্য প্রান্তরকে বৈশ্বিক কৃষি শক্তিতে রূপ দিয়েছেন,’ বলেন তিনি। হালকা রসিকতা করে যোগ করেন, তারা ‘আমেরিকান বিয়ারের মানও নাটকীয়ভাবে উন্নত করেছেন।’
ফরাসি পশম ব্যবসায়ী ও অভিযাত্রীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সম্প্রসারণ ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন রুবিও।
ভাষণে তিনি অভিবাসন, শিল্পায়ন হ্রাসসহ ট্রাম্পের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ইস্যুগুলোও তুলে ধরেন এবং এসব বিষয়ে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
রুবিও বলেন, একসঙ্গে কাজ করলে শুধু ‘সুস্থ পররাষ্ট্রনীতি’ পুনরুদ্ধারই সম্ভব হবে না, বরং পশ্চিমা সভ্যতার অস্তিত্বের প্রতি যে হুমকি রয়েছে, তারও জবাব দেওয়া যাবে।