বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে থানায় আশ্রয় নেওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থী তহমিনা আক্তার (১৭) কে 'কন্যা সাহসিকতা' পুরস্কারে ভূষিত করেছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন।
আজ বুধবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর-রাজ্জাক-সাইফ মিজান সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তহমিনা আক্তারকে 'কন্যা সাহসিকতা' সম্মাননা স্মারক, সার্টিফিকেট ও তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, তহমিনা যে সাহসিকতা দেখিয়েছে তা সত্যিই অনুকরণীয়। তার এই পদক্ষেপ অন্য মেয়েদেরও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উৎসাহিত করবে।
তিনি বলেন, নারী শিক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। বাল্যবিয়ে কারণে শিক্ষার্থীর ঝড়ে পড়া রোধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
তহমিনা জেলা জিয়ানগর উপজেলার সেতারা স্মৃতি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি উপজেলার ইন্দুরকানী ইউনিয়নের চাড়াখালি গ্রামের আলম হাওলাদার ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
পরীক্ষার মাত্র ৪ দিন পূর্বে (১৭ এপ্রিল) তহমিনার দরিদ্র বাবা-মা এক প্রবাসীর সাথে তার বিয়ের দিন ঠিক করে। কিন্তু বিয়েতে অসম্মতি জানায় তহমিনা। তবে পরিবারের চাপে অতিষ্ঠ হয়ে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেতে ওইদিন তিনি জিয়ানগর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় তার বাল্যবিয়ে স্থগিত করা হয় এবং এ বিষয়ে তার বাবা মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিকা আক্তার, জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমানসহ তহমিনার পরিবারের সদস্যরা।