×
ব্রেকিং নিউজ :
সিংড়ায় জিয়া পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সিরাজগঞ্জে অনুদানের চেক বিতরণ মাদারীপুরে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিলেন স্পিকার হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেল বাংলাদেশ গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল ডেপুটি স্পিকারের সহযোগিতায় শিশুর হৃদরোগের সফল অস্ত্রোপচার আসিয়ানকে আরও শক্তিশালী করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ : খলিল
  • প্রকাশিত : ২০২০-০৩-১৫
  • ৫৪১ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের মুখে রাতভর নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা

জামিনে মুক্তি পেয়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। এদিকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় মানববন্ধন-প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে সরাসরি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে সকালে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের আবেদনের পর কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা তাকে জামিন দেন।জামিন প্রসঙ্গে আরিফুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ তার কাছে একটি ওকালতনামা পাঠায়। পরিবার পাঠিয়েছে বলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে পরিবারের কেউ ওকালতনামায় স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য জেল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও কাগজ পাঠায়নি।জামিনে মুক্ত হওয়ার পর কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নির্যাতনের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১২টার পর খেয়ে শুয়ে পড়ার পর একজন তার বাড়ির দরজায় ধাক্কা দেন। পরিচয় জানতে চাইলে কেউ পরিচয় জানায়নি। পরে বাইরে থাকা আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন লোকজন দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকেই মাথায় কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। আমার টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে চোখ-হাত-পা বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে এনকাউন্টার দিতে চায়। বারবার বলে, তুই কলেমা পড়ে ফেল তোকে এনকাউন্টার দেওয়া হবে।’ভয়াবহ সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আরিফুল বলেন, ‘এ সময় তাদের কাছে অনুনয় বিনয় করে প্রাণ ভিক্ষা চাই। তাদের বলি, আমার বাবা-মা নেই, আমাকে মেরে ফেলা হলে দুটি সন্তান এতিম হয়ে যাবে। পরে তারা আমাকে গাড়িতে করে একটি ভবনে নিয়ে চোখের কাপড় একটু খুললে বুঝতে পারি এটা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। আবার নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আমাকে একটি কক্ষে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালিসহ বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করে এবং বলে তোর ভিডিও করে রাখছি।’তিনি আরও বলেন, ‘আটকের বিষয়ে বারবার আমার অপরাধের বিষয় জানতে চাইলে নিজাম উদ্দিন বলেন, তুই আমাদের অনেক জ্বালাচ্ছিস। তোকে সাংবাদিকতা শেখাবো। এরপর চোখ বাঁধা অবস্থায় চারটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে রাতেই আমাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। আমাকে কেন কারাগারে পাঠানো হলো এবং কেন ধরে আনা হলো কিছুই বলা হয়নি। আমাকে যে নির্যাতন করা হয়েছে তার আঘাতের চিহ্ন আমার শরীরে আছে।’কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রেদওয়ান ফেরদৌস সজিব জানান, আরিফুল ইসলাম রিগান বর্তমানে ভাল আছে। তার শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। এসব রিপোর্ট হাতে আসলে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাড়িতে হানা দিয়ে মারধর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আরিফুল ইসলামকে। তার বাসায় আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ আনা হয়। এরপর গভীর রাতে জেলা প্রশাসকের অফিসে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat