অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আজ তার সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি, বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারের সেবা প্রদানের সক্ষমতা মূলত নির্ভর করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শক্তি ও দক্ষতার ওপর।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা সন্তোষজনক নয় এবং সেগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আমাদের প্রথমেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হবে প্রথম অগ্রাধিকার। তার মতে, এই মৌলিক উপাদানগুলো ছাড়া সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক কর্মসূচিও অর্থবহ ফলাফল দিতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব আনতে হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব গুণাবলি ছাড়া কোনো বড় উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।
অর্থমন্ত্রী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে ‘এক নম্বর’ কাজ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য সুশাসন কাঠামো পুনর্গঠন অপরিহার্য।
দেশকে ‘পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি’ থেকে বেরিয়ে এসে অর্থনীতির ‘গণতন্ত্রীকরণের’ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে সাধারণ মানুষের জন্য।’ তিনি সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং তার সুফল ভোগের সুযোগ থাকা উচিত।
তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনীতিতে ব্যাপক অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম মানদণ্ড হবে-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছানো নিশ্চিত করা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত দেশে পরিণত হয়েছে, তাই এখন প্রয়োজন কার্যকর নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ ও উদারীকরণ।
তার মতে, বছরের পর বছর পৃষ্ঠপোষকতা-ভিত্তিক রাজনীতির কারণে নানা স্তরের বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাড়িয়েছে এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে সীমিত করেছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রায়ই দুর্নীতি ও অবৈধ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে। নিয়ন্ত্রক কাঠামো যৌক্তিক করলে বাধা কমবে, প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
তার অগ্রাধিকার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থনীতি থাকবে তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে, আর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ হবে তার কর্মসূচির মূল স্তম্ভ।
অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে জোর দেওয়া হচ্ছে প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানো এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত করার ওপর।