×
ব্রেকিং নিউজ :
সিলেটে ছাত্রশিবিরের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের বর্ণাঢ্য র‌্যালি ছুটিতে বাড়ি ফেরা হলো না মুরাদের, ট্রেন দুর্ঘটনায় নিভে গেল সম্ভাবনাময় জীবন বাঞ্ছারামপুরকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা হবে : জোনায়েদ সাকি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিএনপির পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো নতুন মোড়কে বিভ্রান্তের চেষ্টা করছে : চরমোনাইর পীর অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায় : নাহিদ ইসলাম দুই বছরে তিন প্রধানমন্ত্রী: নতুন সরকার গঠনে ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ড ভিনদেশি প্রভাবে নয়, দেশের জনগণের সিদ্ধান্তেই রাজনীতি হওয়া উচিত : কর্ণেল অলি
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৬
  • ৫৪৭৬৬৯৭ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগাম সাধারণ নির্বাচনের দুই দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন। জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এ নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে।

এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দায়িত্ব গত অক্টোবরে নেওয়ার পর থেকে পাওয়া জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে রোববারের নির্বাচনে তাকিয়ে আছেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

টোকিও থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, তাকাইচি ‘ইতোমধ্যে একজন শক্তিশালী, প্রভাবশালী ও প্রাজ্ঞ নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, এবং তিনি সত্যিকার অর্থেই নিজের দেশকে ভালোবাসেন।’ একই পোস্টে তিনি জানান, তাকাইচি আগামী ১৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান বাণিজ্য বিষয়ে একটি ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ চুক্তি করার লক্ষ্যে কাজ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করছে। তিনি তাকাইচির প্রতি ‘পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এবং তার জোট যে কাজ করছে, তার জন্য তিনি শক্তিশালী স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।’

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা বিদেশের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তবে ট্রাম্প এর আগেও আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলে ও হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানসহ কয়েকজন নেতাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছেন।

৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্পকে জাপান সফরে স্বাগত জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নেন। তিনি ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন জানান এবং তাঁকে গলফ-সংক্রান্ত স্মারক উপহার দেন।

গত জুলাইয়ে বাণিজ্য কর্মকর্তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছান, যার ফলে জাপানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৫ শতাংশের হুমকি থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়; এর বিনিময়ে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

চীন যদি স্বশাসিত তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, সে ক্ষেত্রে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে- গত নভেম্বরে তাকাইচির এমন মন্তব্য নিয়ে চীনের সঙ্গে তার বিরোধের বিষয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

গণতান্ত্রিক তাইওয়ান কখনোই চীনের শাসনের অধীনে ছিল না, তবে বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেনি।

কিছুসংখ্যক অনির্ধারিত ভোটার থাকলেও জরিপগুলোতে রোববারের নির্বাচনে তাকাইচির বড় ধরনের বিজয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

মূলত মূল্যস্ফীতি ও গোপন তহবিল কেলেঙ্কারির কারণে ভোটারদের আস্থা হারিয়ে স্থবির হয়ে পড়া লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে (এলডিপি) নতুন গতি সঞ্চার করতে পেরেছেন তিনি।

অতিমাত্রায় রক্ষণশীল নীতির জন্য পরিচিত হলেও তরুণদের মধ্যেও তাকাইচির ব্যাপক সমর্থন রয়েছে—যে দেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রবীণ ভোটাররাই রাজনীতির প্রধান নিয়ামক।

টেম্পল ইউনিভার্সিটি জাপানের ইতিহাস ও এশীয় অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক জেফ কিংস্টন বলেন, ‘নির্বাচন ডাকার ঝুঁকি তাঁর জন্য সুফল বয়ে আনবে। তিনি শক্তিশালী গণসমর্থন এবং সম্ভবত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন, যা তাকে উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শক্তিশালী গণসমর্থন পাওয়া একজন রক্ষণশীল নেতার বিজয় ট্রাম্প স্বাগত জানাবেনৃ তিনি বিজয়ীদের পছন্দ করেন, এবং তাকাইচি প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও শুল্ক কমানোর বিনিয়োগ চুক্তি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন।’

রোববারের নিম্নকক্ষ নির্বাচনের আগে জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এলডিপি সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে প্রয়োজনীয় ২৩৩টির বেশি আসন পেতে পারে।

শুক্রবার মাইনিচি শিম্বুন প্রকাশিত দুই লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত একটি স্মার্টফোনভিত্তিক জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ৪৬৫টি আসনের মধ্যে এলডিপি ৩০০টির বেশি আসন পেতে পারে।

জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টির (জেআইপি) আসন যোগ হলে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাও পেতে পারে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

অন্যদিকে প্রধান বিরোধী কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (সিডিপি) ও এলডিপির সাবেক জোটসঙ্গী কোমেইতো মিলে গঠিত নতুন সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স তাদের বর্তমান ১৬৭টি আসনের প্রায় অর্ধেক হারাতে পারে বলে অন্যান্য জরিপে দেখা গেছে।

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি তাকাইচির নীতির কারণে আর্থিক বাজারেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জাপানি সরকারি বন্ডের মুনাফা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং ইয়েনের দর ওঠানামা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের বিপুল ঋণের বোঝা—যা দেশের অর্থনীতির আকারের দ্বিগুণেরও বেশি এবং তাকাইচির ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার) প্রণোদনা প্যাকেজ ও কর কমানোর প্রতিশ্রুতি এ উদ্বেগের কারণ।

তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ সূর্য বলেন, তাকাইচি ‘অতিরিক্ত রাজস্ব অপচয় করবেন’ এমন আশঙ্কা তিনি করছেন না।

তিনি বলেন, ‘যদি সরকার সরকারি অর্থব্যবস্থাপনায় ঢিলেঢালা আচরণ করতে চায়, তবে বন্ড বাজারই তা নিয়ন্ত্রণে আনবে বলে আমরা মনে করি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat