×
ব্রেকিং নিউজ :
সিলেটে ছাত্রশিবিরের ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের বর্ণাঢ্য র‌্যালি ছুটিতে বাড়ি ফেরা হলো না মুরাদের, ট্রেন দুর্ঘটনায় নিভে গেল সম্ভাবনাময় জীবন বাঞ্ছারামপুরকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত করা হবে : জোনায়েদ সাকি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর ও উপ-রাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বিএনপির পুরোনো রাজনৈতিক শক্তিগুলো নতুন মোড়কে বিভ্রান্তের চেষ্টা করছে : চরমোনাইর পীর অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর বাংলাদেশের মানুষ আজ পরিবর্তন চায় : নাহিদ ইসলাম দুই বছরে তিন প্রধানমন্ত্রী: নতুন সরকার গঠনে ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ড ভিনদেশি প্রভাবে নয়, দেশের জনগণের সিদ্ধান্তেই রাজনীতি হওয়া উচিত : কর্ণেল অলি
  • প্রকাশিত : ২০২৬-০২-০৬
  • ৬৫৪৫৪৮২ বার পঠিত
  • নিজস্ব প্রতিবেদক
দুই বছরে তিন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের পর নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে রোববার ভোট দিচ্ছে থাইল্যান্ডের জনগণ। নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছে গতবার সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া জনপ্রিয় সংস্কারপন্থীরা এবং শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হওয়া রক্ষণশীল শিবির। কারাগারে থাকা সাবেক নেতা থাকসিন শিনাওয়াত্রা এখনও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করছেন।

ব্যাংকক থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির পরবর্তী সরকারকে কম্বোডিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মোকাবিলা করতে হবে, যা গত বছর দুবার প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। একই সঙ্গে অঞ্চলভিত্তিক বহুজাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল রয়েছে। পর্যটন খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোভিড-পূর্ব সময়ের পর্যায়ে পর্যটক আগমন এখনও ফিরে আসেনি। দ্রুত বিকাশমান ভিয়েতনাম এখন বেশি বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না এবং নির্বাচনটি তিন বছরেরও কম সময় আগে অনুষ্ঠিত আগের ভোটের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

সেই নির্বাচনে প্রগতিশীল পিপলস পার্টির আগের সংস্করণ সর্বাধিক ভোট ও সংসদীয় আসন পেলেও তাদের প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হতে বাধা দেওয়া হয় এবং পরে দলটি বিলুপ্ত করা হয়।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া থাকসিনের ফেউ থাই পার্টি তৃতীয় স্থান পাওয়া রক্ষণশীল ভুমজাইথাই পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে সরকার গড়লেও আদালতের আদেশে তাদের প্রধানমন্ত্রী অপসারিত হন।

তারপর থাকসিনের কন্যা পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু তাকেও আদালতের রায়ে অপসারণ করা হয়। পরে সংসদ তার সাবেক জোটসঙ্গী আনুতিন চার্নভিরাকুলকে গত সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে—যিনি দুই বছরে দেশটির তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী।

রাজনীতি বিশ্লেষক নাপোন জাতুসরিপিতাক বলেন, ‘থাইল্যান্ডের নির্বাচনের ফলাফল এখন কার্যত সরকার গঠনের প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘যে দেশে গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা অস্থির, সেখানে এটি ভালো লক্ষণ নয়।’

থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক ইতিহাসে সামরিক অভ্যুত্থান, রক্তক্ষয়ী সড়ক আন্দোলন এবং আদালতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা বারবার ঘটেছে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর পাঁচ বছর সামরিক শাসন চলে এবং সেনাবাহিনী প্রণীত সংবিধানের মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে সরাসরি নির্বাচিত নয়—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করে।

এর ফলে ‘নির্বাচিত ব্যক্তিরা অনির্বাচিতদের দ্বারা দুর্বল হয়ে পড়ছেন’ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নাপোন।

পিপলস পার্টির সমর্থক ২৬ বছর বয়সী প্যাচারি ফাদুংসুকসিরা বলেন, তিনি এমন একটি ব্যবস্থা চান যা ‘আরও ন্যায্য এবং সত্যিকার অর্থে জনগণের কণ্ঠস্বরকে প্রতিনিধিত্ব করে।’

জনমত জরিপে পিপলস পার্টি এগিয়ে রয়েছে এবং প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আনুতিনের ভুমজাইথাই পার্টি। বিশ্লেষকদের ধারণা, ক্যানাবিস বৈধকরণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এ রক্ষণশীল নেতা আবারও ফেউ থাই পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় থাকতে পারেন।

আধুনিক থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক দল ফেউ থাই পার্টির জনপ্রিয়তা কমে গেছে। কম্বোডিয়া ইস্যু সামলানোর পদ্ধতি নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের রায়ে পেতংতার্ন অপসারিত হন এবং থাকসিন দুর্নীতির দায়ে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত পরিবারের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে জরিপকারী সংস্থা নিদার পূর্বাভাস অনুযায়ী দলটি মাত্র ১৬ শতাংশ ভোট পেতে পারে, যা তাদের অতীতের জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেক কম।

মধ্য-ডানপন্থী ভুমজাইথাই জাতীয় প্রতিরক্ষা ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছে, বিশেষ করে গত বছরের কম্বোডিয়ার সঙ্গে সামরিক সংঘর্ষের পর। অন্যদিকে পিপলস পার্টি বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ বাতিল এবং জেনারেলের সংখ্যা কমানোর পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে।

তিনটি প্রধান দলই বিভিন্ন জনমুখী ভর্তুকি ও সামাজিক-অর্থনৈতিক কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ফেউ থাই প্রতিদিন ১০ লাখ বাথ (প্রায় ৩১ হাজার ডলার) করে নয়টি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা অর্থনীতিতে গতি আনবে বলে তারা দাবি করছে।

রোববারের ভোটে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ভোটাররা নীতিগতভাবে সংবিধান সংস্কার চান কি না- সে বিষয়ে মতামত জানাতে পারবেন, যদিও নির্দিষ্ট কোনো সংস্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়নি।

রাজনীতি বিশ্লেষক পাঞ্চাদা সিরিভুন্নাবুদ বলেন, থাইল্যান্ডের ‘পুরোনো ধাঁচের’ রাজনীতি এখনও বহাল থাকায় এই নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের আশা করা কঠিন।

তিনি বলেন, পিপলস পার্টি যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, যা অতীতে কেবল থাকসিনের দলই অর্জন করেছিল। তবে তাদের পক্ষে সরকার গঠন করা ‘প্রায় অসম্ভব’ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
#
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat