উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়া এই মাসের শেষের দিকে একটি দলীয় কংগ্রেস আয়োজন করতে যাচ্ছে, ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো এত বড় সমাবেশ হবে। রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, শনিবার দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার (ডব্লিউপিকে) শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে দলের প্রধান কিম জং উনও উপস্থিত ছিলেন। সিউল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
কেসিএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ডব্লিউপিকে কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরো সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বিপ্লবের রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে ডব্লিউপিকের নবম কংগ্রেস আহ্বানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
এর আগে সর্বশেষ দলীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে।
ওই কংগ্রেসে কিম জং উনকে দলের মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তার কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এর আগে এই পদটি কেবল তার বাবা ও পূর্বসূরি কিম জং ইলের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
দলীয় কংগ্রেস হলো ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সমাবেশ। এটি শাসনব্যবস্থার কর্তৃত্ব জোরদার করে এবং নীতি পরিবর্তন কিংবা শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে রদবদলের ঘোষণা দেওয়ার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
২০২১ সালের কংগ্রেসের পর থেকে উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একাধিকবার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে দেশটি।
ইউক্রেন যুদ্ধের সময় মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও গড়ে তুলেছে পিয়ংইয়ং। রুশ বাহিনীর সঙ্গে লড়তে উত্তর কোরীয় সেনাদের পাঠানো হয়েছে।
২০২৪ সালে দুই দেশ একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল।